
বেনাপোল প্রতিনিধি:
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে দৌলতপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন জি এম হান্নানের বসতভিটায় ভয়াবহ লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার ৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দিনের পর দিন আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল বা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামিমের সঙ্গে সাক্ষীরা ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো কারণ ছাড়াই সরাসরি দেখা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন, যা সাক্ষীদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে—রাজিব (পিতা: আবু জাফর), মনিবুর রহমান (পিতা: শেখ আব্দুল জব্বার), সিকো মিয়া (পিতা: লুতফর মণ্ডল), শেখ আবু জাফর (পিতা: শেখ লেদু মিয়া), রাজু মোল্লা (পিতা: বক্কার মোল্লা), সুমন (পিতা: নজরুল ইসলাম ওরফে নজু), কিয়াস (পিতা: আব্দুল মান্নান) এবং আল আমিন (পিতা অজ্ঞাত)। স্থানীয়দের অভিযোগ, এদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত সিকো মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সিকো মিয়া জেটিসি ঘাট থেকে ফরমাসখানার সুইচ গেট পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার কারণেই দিঘলিয়া এলাকা একসময় খুন ও মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। সরকার পতনের পর সিকো মিয়া আত্মগোপনে থাকলেও তার সহযোগীরা এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে।
তদন্তের ধীরগতি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে দিঘলিয়া থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মূল হোতা সিকো মিয়াসহ সকল আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মো: আনিছুর রহমান
বেনাপোল, যশোর
০১৯১৬-৯১৯৩৬২
৩০/০৯/২৬